ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ :পাহাড়-পর্বতে

তাজিংডং বা বিজয়

সরকারিভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ তাজিংডং। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও টেক্সবুক বোর্ডের মাধ্যমিক ভূগোল বই-এ এর উচ্চতা দেখানো হয়েছে ১২৩১ মিটারবা ৪১৩৮.৭১ ফুট। অন্যদিকে জেলা প্রসাশক ওয়েবসাইটে এর উচ্চতা ১০০৩ মিটার বা ৩২৯১.৬৮ ফুট।

১৯৯৬ সালে একদল পর্বতারোহী দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ কেওক্রাডং থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের এ পর্বত শিখর আবিষ্কার করেন।

তাজিংডং পর্বতটি বান্দরবন জেলার রুমা উপজেলার রেমাক্রীপাংশা ইউনিয়নের সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত ।এ  পর্বতের পাশে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের পল্লী।

স্থানীয় মারমা ভাষায় তাজিং শব্দের অর্থ বড় আর ডং শব্দের অর্থ পাহাড়। এ দুটি শব্দ থেকে এর নামকরণ করা হয় তাজিংডং। সরকারীভাবে তাজিংডংকে বিজয় নামে সম্বোধন করা হয়।

বছরের যে কোন সময় তাজিংডং ঘুরে আসতে পারেন।বর্ষায় এর আর্কষণ সবচেয়ে সুন্দর। বান্দরবন হতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার  এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এ পর্বতের অবস্থান।

 

কেওক্রাডং

 বান্দরবন জেলার রুমা উপজেলার রেমাক্রীপাংশা ইউনিয়নের ঠিকাগাও পর্বত সারিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ কেওক্রাডং।মারমা শব্দ কেওক্রাডং এর বাংলা হচ্ছে সবুজের পাহাড়। রুমা উপজেলার সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং বগা লেক থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে এ পর্বতের অবস্থান।

কেওক্রাডং এর চূড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বসানো একটি পাথরের উল্লিখিত মাপ অনুযায়ী এর উচ্চতা ৩১৭২ ফুট।

 

নীলগিরি

বান্দরবন জেলার নীলগিরি পাহাড়জুড়ে অবস্থিত বাংদেশের সর্বোচ্চ পর্যটন কেন্দ্র।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ ফুট উচুতে অবস্থানের কারণে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র থাকে সর্বদা মেঘমন্ডিত। আর এটাই এ পর্যটন কেন্দ্রের বিশেষ আর্কষণ।

বান্দরবন জেলা শহর হতে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত এ পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে মেঘদূত, আকাশলীনা, নীলাঙ্গাসহ নানা নামের আকর্ষণীয় কর্টেজ।

এ নীলগিরির কাছাকাছি রয়েছে বেশ কয়েক মৌ নৃগোষ্ঠীর গ্রাম। এটা অনেকের কাছে বাংলার দার্জিলিং নামে পরিচিত।

 

সাজেক ভ্যালি: রাঙামাটির ছাদ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়ন দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন।

১৭৭১.৫৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ ইউনিয়নকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন এ ইউনিয়নেই অবস্থিত সাজেক ভ্যালি।

রাঙামাটির একেবারে উত্তরে অবস্থিত এ সাজেক ভ্যালিতে রয়েছে দুটি পাড়া- রুইলুই এবং কংলাক।১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুইপাড়ার উচ্চতা ১৭২০ ফুট আর ১৮০০ ফুট উচ্চতায় কংলাক পাড়া।

সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার।

 

 আলুটিলা

খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে উচু পাহাড় আলুটিলা। নামে টিলা হলেও মূলত এটি একটি পর্বতশ্রেণী। সমুদ্র সমতল থেকে এর সর্বচ্চো উচ্চতা ৩০০০ ফুট। আলুটিলার আগের নাম ছিল আরবারি পর্বত।

 

চিম্বুক পাহাড়

বান্দরবন জেলা শহর হতে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়।সমুদ্র সমতল থেকে এর উচ্চতা প্রায় ২৫০০ ফুট।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার চিম্বুক পাহাড়কে বলা হয় কালা পাহাড় বা পাহাড়ের রাণী।

Join This Conversation